dainik shomoy | logo

২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং

বাঘ বিধবাদের ট্রাজেডি ও সুন্দরবন

প্রকাশিত : জুন ২৮, ২০২০, ০৩:২৭

বাঘ বিধবাদের ট্রাজেডি ও সুন্দরবন

দৈনিক সময় পীযূষ বাউলিয়া পিন্টুঃ

এরা সাথী হারা বাঘ বিধবা। উপকূলীয় অঞ্চলে কর্মসংস্থান সঙ্কটের কারণে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বিকল্প পেশা হিসেবে সুন্দরবনের পেশায় যুক্ত হয়। সে কারণে নব্বইয়ের দশকের পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে নোনা পানির চিংড়ি চাষের কারনে মানুষের কর্মসংস্থান হ্রাস পায়। হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। মানুষ বিকল্প পেশা হিসেবে সুন্দরবনের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ফলে বাঘের আক্রমনের শিকার হতে থাকে। সামাজিক কুসংস্কার এর ধুমজাল ছুটে বেড়াতে থাকে এরা নাকি অপায়া অলক্ষী স্বামী খেগো। 2020 সাল পর্যন্ত বাঘ বিধবা র সংখ্যা ১০০০ এর অধিক। এই সকল বাঘ বিধবা মায়েদের স্লেহ মমতা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন কুতুবউদ্দিন গোরা নামে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী। সহানুভূতির সাথে দীর্ঘ পথ পাড়ী দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমে মানবতার যুদ্ধে যারা ছিলেন খুলনা কুয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক দেবপ্রসাদ মন্ডল, সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি দৈনিক পত্রদূত সাংবাদিক পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু , তরুন প্রজন্মের যোদ্ধা প্রদীপ মণ্ডল, দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি জমিয়ে আনন্দে মাতিয়ে রাখার তরুণ যোদ্ধা উৎপল গায়েন। ৩ দিনে ৮৬টি পরিবারের মাঝে নগদ ১০০০ টাকা, ১ টি শাড়ী, স্যালাইন ও পানিবাহিত রোগের ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে সকল বাঘ বিধবা মায়ের পাশে গিয়ে সহযোগিতার পরশ দিতে পেরেছি অনেক বড় পাওয়া। বাঘ বিধবাদের বাড়িতে গিয়ে সহযোগিতা করা তাদের জীবনের এই প্রথম পাওয়া। বাঘ বিধবারা অধিকাংশ স্বামীর ভিটা ছেড়ে বাপের বাড়ি অথবা খাস জায়গাতে তাদের শেষ সম্বল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের রক্তচক্ষু ঘৃণা অবহেলায় সন্তানদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলার সুযোগ টুকু হয়ে ওঠেনি, এই দুঃসময়ে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় আইলা, বুলবুল ফনি আমফান এই সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের হাল ছাড়েনি জীবন সংগ্রামে অনেকেরই তছনছ করে দিয়েছে ছোট্ট কুঁড়ে ঘর টুকু তবুও বেঁচে থাকার স্বপ্ন স্বামীর পথ ধরে বিধবারা আজও সুন্দরবনের পেশার সাথে জড়িত আছেন এ কষ্টের অনুভূতি টুকু প্রকাশ করতে গিয়ে বাঘ বিধবা গীতা রানী বলেন এই 20 বছর যাবৎ আমি সহযোগিতা পায়নি এই প্রথম দেখলাম আমার বাড়িতে এসে বাবা তোমরা আমার হাতে এই একটা শাড়ি আর ১০০০ টাকা তুলে দিলে আমি চিকিৎসা হতে পারবো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
৯ নং সোরার রহিমা খাতুন। নিঃসন্তান। পেটের তাগিদে জঙ্গলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি জানান, সুন্দরবনের মধ্যে জাল টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এমন সময় বাঘ এসে ঝাপিয়ে পড়ে। সে জালের মধ্যে ঢুকে যায় প্রাণ বাঁচাতে আর চিতকার করতে থাকে। পাশে মাঝিরা এসে কোনো মতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। মাথায়, পিঠে, হাতে এখনো বড় বড় দাগ। সেই থেকে কর্মক্ষমতা অনেক হারিয়ে গেছে। মাথায় খুব যন্ত্রণা হয়। সরকারি ভাবে একটু খাস জায়গা পেয়েছে বসত বাড়ি হিসেবে। সেখানেই থাকে। ভিক্ষা আর মানুষের অনুদানেই চলে রাহিমা সংসার।
সোরা গ্রামের আর এক বাঘ বিধবা রুমিছা খাতুন। ৬/৭ মাসের সংসার জীবন তাঁর। স্বামী জঙ্গলে মাছ ধরতে যেয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত হয়, তখন তিনি ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সেখান থেকে শুরু হয় জীবন সংগ্রামের চুড়ান্ত অধ্যায়। ২৮ বছর ধরে সন্তানকে বুকে আগলে কাটাচ্ছে দিন। সন্তান এখন জঙ্গলে যায়, উপার্জন করে। দুই বছর হলো বিয়ে দিয়েছেন। সরকারি খাস জমিতে একটা ঘর বেঁধেছেন এসবেস্টস দিয়ে। এখনো বেড়া দিতে পারেনি। জায়গা খুব কম। তবু তিনি ভালো আছেন।




সম্পাদক ও প্রকাশক :

অফিস লোকেশন:

ফোন:

ই-মেইল:

Copyright  @ JagoBarta.  All right reserved. Website Hosted by www.bdwebs.com