dainik shomoy | logo

৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

শ্যামনগরে ধুমঘাট মোড়ল ফিসের বিদ্যুৎ ফাঁদ পেতে টকবোগে যুবকের মৃত্যুর

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২০, ০৫:৪৪

শ্যামনগরে ধুমঘাট মোড়ল ফিসের বিদ্যুৎ ফাঁদ পেতে টকবোগে যুবকের মৃত্যুর

তাপস মন্ডল দৈনিক সময় প্রতিনিধিঃ

শ্যামনগরে পরিকল্পনাহীন মৎস্য প্রকল্পে চুরি ঠেকানোর কৌশল হিসেবে মৎস্য ঘেরে দেয়া অরক্ষিত বিদ্যুৎ এর ক্যাবলে জড়িয়ে রমজান আলী (১৬) নামের টকবোগে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। (৪ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলকাটি গ্রামের ‘মোড়ল ফিস’ নামীয় সাদা মাছের একটি প্রজেক্টে এ ঘটনা ঘটে। প্রভাবশালী মালিকপক্ষ সেই দিন থেকে মৎস্য প্রজেক্টে চুরি ঠেকানোর কৌশল ও অপরিকল্পিতভাবে বিদুৎ লাইনে জড়িয়ে মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিহতের পরিবার সাথে মিমাংসা করানোর চেষ্টা চালায় প্রজেক্ট মালিক সামিউল ইসলাম। বিষয়টি মিমাংসার জন্য বিভিন্ন ভাবে নিহতের পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।চাপ প্রয়োগের একপর্যায়ে নিরপায় হয়ে (৫ সেপ্টেম্বর) শনিবারে নিহত রমজানের পরিবার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শোকের আলীর মধ্যস্থতায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মাধ্যমে মিমাংসা করেছে বলে জানা যায়। টাকা নিয়ে মিমাংসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের পিতা শুকর আলী। তিনি বলেন, বিভিন্ন জনের চাপে পড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় মিমাংসা করেছি। ১ লাখ টাকা দিয়ে দেছে বাকি ৬০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান ফোন দিলে নিয়ে আসব। স্থানীয় ইউপি সদস্য সোবাহান গাজী জানান, ইউনিয়ন পরিষদে বসে চেয়ারম্যান শোকর আলীর মাধ্যমে ঘের মালিকের সাথে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় মিমাংসা হয়।এক লাখ টাকা নগদ দেওয়া হয়ে ছিল এপযন্ত জানি।

বিষয়টি নিয়ে মোড়ল ফিশের প্রোঃ সামিউল ইসলাম বলেন, আমার চাচা ফেরদৌস মেম্বার ঈশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শোকর আলীর মাধ্যমে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় মীমাংসা করেছে। এক লক্ষ টাকা নগদ দিয়েছি ৬০ টাকা দুইদিন পরে দেয়ার কথা আছে। মঙ্গলবার (৮ সোমবার) বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শোকর আলী টাকা দিয়ে মিমাংসা হয়ছে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নিহত রমজানের ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মীমাংসা করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রজেক্টের অফিস রুম থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরের পুকুরগুলোতে বাঁশের লাঠি দিয়ে ক্যাবল টেনে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। রাতে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মুহুর্তে একই ক্যাবল ব্যহার করে মটর চালিয়ে মাটির তলদেশ থেকে পানি উত্তোলন করা হয় পুকুরগুলোর জন্য। ক্যাবলের কভার ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি উঁচু করে না দেয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে প্রজেক্ট সংশ্লিষ্টদের ও বিদ্যুৎ বিভাগকে লিখিত অভিযোগে দিয়ে বার বার দৃষ্টি আকর্ষণ সত্ত্বেও প্রতিকার মেলেনি। এরপর থেকে ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা।মোড়ল ফিস নামীয় ঐ প্রজেক্টের বিদ্যুৎ এর তারে জড়িয়ে সম্প্রতি আবুল হোসেনর একটি গরু মারা যায়। কয়েক দিন পুর্বে স্থানীয় সুবোল মন্ডলের স্ত্রী সুনীতি মন্ডল ঘাস কাটতে যেয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হলে তার একটি আঙুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হয়। এক বছর পুর্বে ঐ প্রজেক্টের একটি পুকুরের পাশ হতে আরও এক ব্যক্তির মৃতদেহ আবিস্কার করে স্থানীয়রা। প্রতিনিয়ত এধরণের ঘটনাকে রহস্য জনক বলে মনে করেন এলাকাবাসী। টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যাচ্ছে এধরনের অপরাধীরা অন্য দিকে বিদুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে এধরনের অপরাধ মূলক কাজ সংগঠিত হচ্ছে । তারাও পার পেয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) ইয়াছিন আলম চৌধুরী বলেন, মিমাংসার বিষয়টি আমরা জানিনা। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীরা প্রজেক্ট মালিকের পক্ষ নিয়ে নিহতের পরিবারের সাথে টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করাটা খুবই দুঃখজনক। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।




সম্পাদক ও প্রকাশক :

অফিস লোকেশন:

ফোন:

ই-মেইল:

Copyright  @ JagoBarta.  All right reserved. Website Hosted by www.bdwebs.com