dainik shomoy | logo

১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মে, ২০২১ ইং

বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার এক যুগ

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২১, ০০:৪৬

বঙ্গবন্ধুকন্যা  জননেত্রী শেখ হাসিনার  নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার এক যুগ

দৈনিক সময়।

দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষকে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনেছে সরকার। মুজিববর্ষেই সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত হবে।
২০০৮ সালের যুগান্তকারী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এক নতুন সময়ে। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ‘দিন বদলের সনদ’ কে সামনে রেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের এক মহা কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। একই সাথে ভিশন-২০২১ প্রনয়নের মাধ্যমে দিকহারা বাংলাদেশ যেন পায় নতুন লক্ষ্য। পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রো রেল নির্মাণের মতো বিশাল সব মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি শতভাগ বিদ্যুতায়ন, প্রতিটি মানুষের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, শক্ত অর্থনীতি তৈরি করা, শতভাগ শিক্ষার হার অর্জন করা, দারিদ্র্য নির্মুল করার মতো জিবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করা শুরু করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার।

২০২১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক অনন্য মাইলফলক অর্জন করেছে। প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে টানা ১২ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে আওয়ামী লীগ আর চালকে আসনে আছেন বঙ্গবন্ধু সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। শুধু উন্নয়ন কর্মকান্ডই নয়, এই ১২ বছরে নানান ধরনের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগও সামাল দিয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি, ঘুর্নিঝড় ফণী, সুপার সাইক্লোন আম্পান এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের মতো সমস্যাগুলোও নিপুণ হাতে সামাল দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনাসংকট মোকাবেলায় পদক্ষেপঃ

সংক্রমণ রোধ ও দ্রুত চিকিৎসায় পদক্ষেপঃ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয় মার্চের প্রথম সপ্তাহে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মিডিয়াতে ধরেই নেওয়া হয়েছিলো বাংলাদেশ এই পরিস্থিতি কোনভাবেই সামাল দিতে পারবে না। এই ধারণাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু মিথ্যাই প্রমাণ করেননি বরং অনেক উন্নত দেশের চাইতেও ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

২০২০ সাল ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে জন্মশতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বছরটিকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সারা বছরব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করা উদ্যোগ ছিল সরকার ও দেশের মানুষের। কিন্তু করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার কারনে সকল পরিকল্পনা স্থগিত করে দেশব্যাপি লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সারাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি সম্বন্ধে ধারণা নেন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেন।

করোনা নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতটুকু সফল হয়েছেন তার পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে। আন্তর্জাতিক এই সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায় বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশের মধ্যে ২০তম। প্রতিবেদনের বিভিন্ন সূচকে দেখা যায় প্রতি লাখে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ জন। মাসে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি ১০ লাখে ৪৪ জন মারা গেছেন।

সারাদেশে চিকিৎসক ও নার্সের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২০০০ ডাক্তার ও ৫০০০ নার্স নিয়োগ দেয় সরকার। করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব এমন ল্যাব ছিল মাত্র একটি, সেখান থেকে সারা দেশে এখন ১৮০টি ল্যাবে করোনাভাইরাসের তিন ধরনের পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। টেস্টে পরিমাণ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মহল থেকে র‍্যাপিড টেস্ট চালু করার কথা বললেও তাতে সায় দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। র‍্যাপিড টেস্ট দ্রুততম ফলাফল দিতে পারলেও ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকার কারনে সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়ানোর মতো কোন পদক্ষেপ নেন নি শেখ হাসিনা। শুরুতে অল্প কিছু টেস্ট করা গেলেও বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১২০০০-১৫০০০ পরীক্ষা করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত ৩২ লাখেরও বেশী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে হাসপাতাল সংকট, আইসিইউ বেড সংকট ইত্যাদি সমস্যা থাকলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসকল সমস্যার সমাধান করে সরকার। বর্তমানে সারাদেশে ১০,৪৪৫টি সাধারণ শয্যা এবং ৬০২টি আইসিইউ বেড করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দ আছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে শুরু থেকেই মোবাইলের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে সরকার। এপর্যন্ত ২ কোটি ৩৩ লক্ষ মানুষ মোবাইলের মাধ্যমে সেবা নিয়েছেন আর টেলিমেডিসিন সেবা নিয়েছেন ৬ লক্ষ ৭৬ হাজার মানুষ।

করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে গনমাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরের মতোই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে আসছেন, এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করে বিচারকার্যও শুরু হয়েছে। করোনা সংকটের মধ্যেই দেখা দেয় পিপিই বা পার্সোনাল প্রতেকশন ইকুইপমেন্টের সংকট। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কিছু গার্মেন্টেস খুলে স্বাথ্যবিধি মেনে পিপিই উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ফলে দেশের সংকট তো পুরণ হয়েছেই, পাশাপাশি ৭১টি দেশে রপ্তানি করে ৫০০ কোটি ডলার আয় হয়েছে।

– ভ্যাকসিন আমদানিঃ

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আলোচনা শুরুর সাথে সাথে বাংলাদেশ সরকার সম্ভাব্য সকল ঔষধ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ শুরু করে দেয়। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের কারনে বাংলাদেশ শুরুতেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনকার ৩ কোটি ভ্যাকসিন কেনার জন্য ভারতের সাথে জিটুজি পদ্ধতিতে চুক্তি করে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট এই ভ্যাকসিনের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান। একই সাথে ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (GAVI) বাংলাদেশে ৬.৮ কোটি ভ্যাকসিন পাঠাবে বলে নিশ্চিত করেছে। এর ফলে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সাড়ে ৫ কোটি মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া সম্ভব হবে।

– আর্থিক প্রণোদনাঃ

মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরপরই দেশের অর্থনীতি রক্ষা করা নিয়ে আশংকার সৃষ্টি করে তথাকথিত সুশীল সমাজ ও দেশবিরোধী চক্র। তাদের সকল তত্ত্ব, পুর্বাভাসকে অলীক কল্পনায় পরিণত করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি)-এর ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এই সাহসী পদক্ষেপের সুফল ভোগ করেছে গার্মেন্টস শিল্প থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তা পর্যন্ত। এমনকি কর্মহীন সাধারণ মানুষও এই প্রণোদনার আওতা থেকে বাদ পড়েননি।

দেশের ৭৬ লাখ ফার্ম, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং অন্য আরও কিছু খাতে অর্থনৈতিক সহায়তার অংশ হিসেবে বিনা সুদে ও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এসকল প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় মোট ৩ কোটি ৫৪ লাখ মানুষকে সহায়তা দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ১ হাজার ৯৯২টি রফতানি সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য দুই ধাপে বিনাসুদে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি অবনতি না ঘটে যেন, তাই জুনের মধ্যেই পুরো অর্থ বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক এই অর্থের সুবিধা পেয়েছেন।

মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সরকার ৯ শতাংশ সুদে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে ৪ শতাংশ সুদ ঋণগ্রহীতা এবং বাকি পাঁচ শতাংশ সুদ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বিভিন্ন খাত, ৪১ হাজার ৬৯টি ফার্ম এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়, যার মধ্যে অক্টোবর নাগাদ ৪ হাজার ২২৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর সুবিধা পেয়েছে ৩৭ লাখ ২২ হাজার মানুষ ও বেশ কিছু ফার্ম।

হতদরিদ্রদের নগদ সহায়তা প্যাকেজে ৩৫ লাখ পরিবারকে এককালীন আড়াই হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। এজন্য বরাদ্দ ১ হাজার ২৫৮ কোটি টাকার মধ্যে ৮৮০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা ও খাদ্য সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকার ১০টি প্যাকেজে ২২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে সরকার। এই খাত থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৩ কোটি ২৮ লাখ মানুষ এর সুবিধা ভোগ করেছেন।

– দুস্থ ও অসহায়দের সহায়তা কর্মসূচিঃ

পাশাপাশি দুস্থ, নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষের সহায়তায় সারাদেশে ১০ টাকা কেজি দরে ৯০ হাজার টন চাল দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোকাবেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সারা দেশে অতিরিক্ত ১৩.৭৫ কোটি টাকা ও ২৩ হাজার টন চাল বরাদ্দ দেয়। এসব চাল ও টাকা ত্রাণ হিসেবে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। সারাদেশে জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দুই লক্ষ ১১ হাজার ৩৭ মেট্রিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে এক লক্ষ ৬২ হাজার ১৯৩ মেট্রিক টন। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০৪ টি এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ৬ কোটি ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬৮২ জন । নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ১২২ কোটি ৯৭ লক্ষ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা। এর মধ্যে জি আর নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮১ কোটি ৭৩ লক্ষ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং বিতরণ করা হয়েছে ৭১ কোটি ৮১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৭১ টাকা। এতে উপকারভোগীর পরিবার সংখ্যা ৭৯ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩০৪ টি এবং উপকারভোগী লোক সংখ্যা ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ ১০ হাজার ৮৫৮ জন। শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ ২২ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১৮ কোটি ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ২২০ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৭৯ টি এবং লোক সংখ্যা ১২ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৫৯ জন।

করোনাকালীন সময়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশঃ

করোনা মোকাবেলায় দুরদর্শী পদক্ষেপের কারনে বৈশ্বিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিশ্বের নিরাপদ দেশের তালিকায় ২০তম স্থান অধিকার করে। অনেক উন্নত দেশের চাইতেও বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রনে ছিলো বলে উঠে এসেছে সেই প্রতিবেদনে। আর্থিক প্রণোদনাসহ নানা পদক্ষেপের কারনে করোনাকালীন সময়েও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি একেবারে থেমে যায়নি। প্রতিবেশি দেশ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে জানিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থা আইএমএফ। ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি আকারে তিনগুন বৃদ্ধি পাবে এবং ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

অর্থনৈতিক সূচকে অগ্রগতিঃ

২০২০ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবে স্থির মূল্যের সমতায় বাংলাদেশের জিডিপির আকার ৩০তম এবং চলতি ডলার মূল্যে অবস্থান ৩৯তম। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মাথাপিছু জাতীয় উৎপাদনে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। যদিও করোনার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতেও ধ্বস নামার আশঙ্কা করেছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো। তবে শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবল দেখিয়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২০ শতাংশই পুনর্নির্ধারণ করে। বিগত ৫০ বছরের মধ্যে গত দশকে গড় প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ছিল (৬.৭৬ শতাংশ)। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে প্রতি দশকে ১ শতাংশ পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এটি একটি অনন্য অর্জন। যদিও প্রথম পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনায় ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ ধরা হয়েছিল।

পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে নিম্নমধ্যম আয় থেকে উচ্চমধ্যম আয়ে উন্নীত হওয়ার সীমা হলো মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ৪৫ মার্কিন ডলার (এটলাস পদ্ধতিতে)। ২০২০ সালের অর্থনোইতিক সমীক্ষা অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২০৬৪ মার্কিন ডলার। স্বাধীনতার পর থেকে মানুষের মাথাপিছু গড় আয় ১৫ গুণ বেড়েছে এবং মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিনটি সূচকের দুটিতেই উত্তরণ ঘটলেই একটি দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সুযোগ পাবে, যা বাংলাদেশ অনেক আগেই তা অর্জন করেছে।

অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর অন্যতম আমদানি-রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। ২০২০ সালে ২,১৭৪ কোটি ডলার আয় পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৮.৬৬ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে আয় এসেছিল ১,৮৩২ কোটি টাকা। প্রবাসী আয় বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করে সরকার। এরপর থেকেই প্রবাসী আয়ে গতি আসে। রেমিট্যান্সপ্রবাহ অব্যাহতভাবে বাড়ার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ড অতিক্রম করেছে।

করোনা মহামারির মধ্যে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরের (২০২০-২০২১) প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় বেশি হয়েছে অন্তত ৩ কোটি মার্কিন ডলার। শুধু তা-ই নয়, করোনার বাস্তবতা সামনে রেখে জুলাই মাসে রপ্তানি আয় বাড়ার মধ্য দিয়ে নেতিবাচক ধারা থেকে বেরিয়ে এলো এই খাত, অর্থাৎ সাত মাস পর বাংলাদেশ রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধিতে ফিরে এসেছে। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল রপ্তানি আয়ে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনঃ

আওয়ামী লীগ যখন ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে, তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল চার হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট। এক যুগের ব্যবধানে সেটা বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ। বর্তমানে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য মিলিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট। এক যুগ আগে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ছয় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারত অর্ধেক (৩৬০০ থেকে ৩৭০০ মেগাওয়াট)। এখন চিত্রটি উল্টে গেছে। বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা এখন ১৫ হাজার মেগাওয়াটের মতো। উৎপাদন সক্ষমতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এখন দেশে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট।

চিত্রটি পাল্টে যাওয়ার কারণ, গত এক যুগে ১১৪টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৯ সালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ২৭টি। এখন সেই সংখ্যা ১৪১টি। তবে বিদ্যুৎ খাতে এর চেয়ে বড় সাফল্য সেবার বিস্তৃতি। দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষকে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনেছে সরকার। মুজিববর্ষেই সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত হবে।

এই ১২ বছরে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণের বেশি। ২০০৯ সালে ছিল এক কোটি আট লাখ। এখন গ্রাহক হয়েছে তিন কোটি ৯১ লাখ। ওই সময় মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ২২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ কিলোওয়াট ঘণ্টা। দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ঘাটতি মেটাতে আমদানির সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার, যা এর আগের কোনো সরকারই করেনি। বর্তমানে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে। ১২ বছর আগে গ্রিড সাবস্টেশন ক্ষমতা ছিল ১৫ হাজার ৮৭০ এমভিএ। সেটি বেড়ে এখন হয়েছে ৪৮ হাজার ১৫ এমভিএ। সঞ্চালন লাইন আট হাজার সার্কিট কিলোমিটার থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৪৯৪ সার্কিট কিলোমিটার। বিতরণ লাইন ছিল দুই লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার। দ্বিগুণের বেশি বেড়ে সেটি হয়েছে পাঁচ লাখ ৯৪ হাজার কিলোমিটার। বিতরণে সিস্টেম লস ছিল ১৪.৩৩ শতাংশ। বর্তমানে কমে হয়েছে ৮.৭৩ শতাংশ। দিনের হিসাবে এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট, যা গেল বছরের ২৯ মে উৎপাদন করা হয়।

ডিজিটাল বিপ্লবের প্রভাবঃ

করোনাকালীন সময়ে জীবন যাত্রা প্রায় থেমেই গিয়েছিল সবার। পুরোপুরি না থামার পেছনের কারন ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা এবং আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিরলস পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশে যে ব্যাপক ডিজিটাইজেশন হয়েছে তারই সুফল পাওয়া গিয়েছে করোনার এই সময়ে। অফিসের মিটিং, স্কুলের ক্লাস, ব্যবসা বাণিজ্য, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা সবকিছুতেই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারনে বাংলাদেশ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হয়েছে।

করোনাকালীন সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রেখেছে তথ্যপ্রযুক্তি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠদান করেছে। সরকারি অনলাইন লার্নিং সেবা ‘মুক্তপাঠ’ এর গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার, যা পূর্বে ছিলো ২ লাখ ৩২ হাজার। করোনায় ১১ হাজার ৪০০ শিক্ষক ৩ কোটি ৫০ লাখ অনলাইন ক্লাস নিয়েছে যার সুবিধা গ্রহণ করেছে ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও অনলাইনে ১৮৭ কোর্সের মাধ্যমে ১০ লাখ ৬৫ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি ই-নথি ব্যবহারের জন্য আবেদন করা গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯৬.৮ লাখ। ‘মাই গভ’ অ্যাপস ব্যবহারকারী মাসে ৪ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৭১৩ জন। সরকার প্রদত্ত ‘৩৩৩ তথ্য ও সেবা’ সার্ভিসের ব্যবহার ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ লাখ ৯২ হাজারে। এই সার্ভিস ব্যবহার করে করোনা বিষয়ক তথ্য জেনেছেন ৪ লাখ ৯ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে ই-প্রেসক্রিপশন দেয়া হয়েছে ৩১ হাজার ৫৩১ জনকে। এই সার্ভিস ব্যবহার করে জরুরি ওষুধ বা নিত্য পণ্যের জন্য আবেদন করেছেন ১ লাখের বেশি মানুষ।

ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া ছিলো বিচারবিভাগে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত অনলাইন বিচার ব্যবস্থা শুরু হয় যেখানে মে মাসে আবেদন করেন ১৫ হাজার ৫৫৩ জন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে অনলাইনে শুনানির দিন ধার্য হয় ১১ হাজার ৪১৬ মামলার, যার মধ্যে ৯ হাজার ৪৭৪ মামলার শুনানি হয় এবং জামিন পান ৬ হাজার ৪৮৬ জন।

করোনাকালে জনগণকে তথ্য জানাতে চালু করা ‘www.corona.gov.bd’ পোর্টাল থেকে নিয়মিত তথ্য গ্রহণ করেছে ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ।

এই ‘নিউ নরমাল’ জীবনে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে ব্যাংকিং ক্ষেত্রে। মানুষ ব্যাংক বা এটিএম সার্ভিসে যাওয়ার পরিবর্তে বাড়িয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। মার্চ মাসে থাকা ২২৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে তা নভেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৪৯১ পয়েন্টে। একইভাবে প্রায় ২০০ পয়েন্ট বেড়েছে ইন্টারনেট ব্যাংকিং।

এ ছাড়াও ‘প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার’, ‘কৃষকের পণ্য’ এমন বেশ কিছু সেবামূলক সার্ভিস ব্যবহার সুযোগ পেয়েছেন দেশে ও দেশের বাহিরে থাকা প্রবাসী নাগরিকেরা।

২০০৮ সালে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ছিলো ৬০ লাখ যা বর্তমানে ১০ কোটির বেশি। এ ছাড়াও ২০০৮ সালের জুলাই মাসে ব্যান্ডউইথের মূল্য ছিলো ২৭ হাজার টাকা যা বর্তমানে ৩০০ টাকা! দেশের উপজেলা পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দিতে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেটের খরচ হ্রাসের কারণে দেশের প্রান্তে প্রান্তে বেড়ে চলছে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা। ২০০৮ সালে যেখানে দেশে মোবাইল ব্যবহারকারী ছিলো ৪ কোটির কিছু বেশি, যা বর্তমানে ১১ কোটির বেশি। এ ছাড়াও ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্যে ২০১০ সালে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হওয়া সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ডিজিটাইজেশন ব্যবস্থা বর্তমানে ‘ইন্টিগ্রেটেড’ বা সমন্বিত সার্ভিসে পরিণত হয়েছে যার সর্বোচ্চ সুবিধা এই করোনাকালে অর্জন করেছে দেশের জনগণ ও সরকার।

উন্নয়ন প্রকল্পঃ

– পদ্মা সেতুঃ

দক্ষিনবঙ্গের মানুষের স্বপ্নের সেতু পদ্মা সেতু। এই সেতু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প। প্রকল্পের শুর থেকে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এর কাজ থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান হয়। বিশ্বব্যাংক শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পে কোন অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আগেই দুর্নীতির অভিযোগ আনে। কিন্তু কানাডার আদালতে এই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এর আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মান করা হবে। আর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ৪১তম স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে যখন সেতুটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হয় তখন সকল গুজব, ষড়যন্ত্র পদ্মার জলে ভেসে যায়।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির উপরে বসানো হয়েছিল প্রথম স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সেতুর জাজিরা প্রান্তে ২০টি, মাওয়া প্রান্তে ২০টি এবং দুই প্রান্তের মাঝখানে একটি স্প্যান বসেছে। ৬.১৫ কিলোমিটার লম্বা এই সেতু রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলাকে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত করবে। এতে করে শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রেই উপকৃত হবেন ৩ কোটি মানুষ। এই সেতুর মাধ্যমে মোংলা বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে, বাড়বে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এতে দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ।

পদ্মাসেতুতে শুধু যে যান বাহন চলবে তা-ই নয়। এই সেতুতে রেল লিংক স্থাপনেরও কাজ চলছে আর এই রেল লাইন যশোর পর্যন্ত বিস্তৃতি পাচ্ছে। ২০২২ সালের প্রথম ভাগেই এই সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সরকার ২০২১ সালের মধ্যে খুলে দিতে চেষ্টা করছে। এজন্য কাজের গতিও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকগুন।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের কারনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সরকার তাদের শুধু পুনর্বাসন নয়, টোলেরও ভাগ পাবেন। প্রকল্প এলাকায় ভূমি ছিলো না, কিন্তু বাস করতো এমন ৮৩৫টি পরিবারকে নতুন করে জমি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত জমির দলিল বুঝিয়ে দেয়ার কাজও শুরু হয়েছে । সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক, সার্ভিস এরিয়া, নদী শাসনের জন্য স্থানীয় যে মানুষদের ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, ভূমিহীন এরকম ২ হাজার ৬৩৫টি পরিবারকে ঠাঁই দেয়া হয়েছে ৪টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। আড়াই, পাঁচ ও সাড়ে ৭ কাঠা করে জমি দেয়া হয়েছে তাদের। দেয়া হয়েছে নগদ টাকাও। প্রকল্প এলাকার শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আছে মসজিদ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পানির পাম্প, সার্বক্ষণিক বিদ্যুত, সুপ্রশস্ত সড়কসহ নানা সুবিধা।

– কর্ণফুলী টানেলঃ

ওয়ান সিটি-টু টাউন’ মডেলে চট্টগ্রাম শহরের সাথে আনোয়ারাকে যুক্ত করতে কর্ণফুলী নদীর তলদশে তৈরি হচ্ছে সাড়ে তিন কিলোমিটারের সুড়ঙ্গপথ। চীনা অর্থায়নে চলমান বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পে কাজ করছে চায়না কমিউনিকেশন্স কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি)। মহামারীর শুরুতে গত মার্চ পর্যন্ত এ প্রকল্পের মোট ৫১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত অগ্রগতি ৬১ শতাংশ। এরই মধ্যে নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি টিউবের মধ্যে একটি খনন ও রিং স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে। টানেলে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে দ্বিতীয় টিউবের খনন কাজ। নদীর তলদেশের নিচে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল, দুই মুখে সড়ক আর ওভারপাস বা সেতুসড়ক নির্মিত হচ্ছে। ২০১৫ সালে অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পে সময়মতো অর্থ ছাড় না করায় কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের শেষের দিকে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু টানেলের ব্যয় ধরা হয়েছে মোট নয় হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভবনা নেই বলে প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন। এ টানেল দিয়ে বছরে প্রায় ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

– রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩১ শতাংশের বেশি ভৌতকাজ এ পর্যন্ত শেষ হয়েছে। মহামারীর কারণে অন্য অনেক প্রকল্প সাময়িক গতি হারালেও এ প্রকল্প সেভাবে বাধাগ্রস্ত হয়নি। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজের ২৬ শতাংশের মত শেষ হয়েছিল মার্চে মহামারীর শুরুর আগে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের প্রথম রিঅ্যাক্টর, প্রেসার ভেসেল ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের অক্টোবরে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

– মেট্রোরেলঃ

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৬ জুন দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্রথম ধাপে প্রতিদিন ২৪টি ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে ট্রেনগুলো। প্রতি চার মিনিট পরপর চলবে মেট্রোরেল। প্রতি ঘণ্টায় ২২ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করতে পারবে। প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে প্রায় ৫ লক্ষ। মেট্রোরেলে চড়ে একজন যাত্রী উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যেতে পারবেন মাত্র ৩৫ মিনিটে।

মেট্রোরেলের প্রথম স্টেশন হবে উত্তরা নর্থ, তারপর যথাক্রমে উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত এই ট্রেন চলাচল করবে।

গত নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। চলাচলের জন্য রেলকোচ তৈরি হয়ে আছে জাপানে, অপেক্ষা শিপমেন্টের। ২১ কিলোমিটার পথে মোট স্টেশন থাকবে ১৭টি। ২০২২ এর ডিসেম্বরের আগেই মেট্রোরেলে যাতায়াত করবে রাজধানীবাসী।

– সমুদ্র বিজয়ঃ

২০০৯ সালে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য হেগের সালিশি আদালতে নোটিশ করে। এর পথ ধরেই ২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমার রায় পায়। এতে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের রাষ্ট্রীয় সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল মহীসোপান এলাকায় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

– বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ। এটি ১১ মে ২০১৮ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ৫৭ তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশের তালিকায় যোগ হয় বাংলাদেশ। ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর স্যাটেলাইটটি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশনসহ সম্প্রচারমাধ্যম এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে, যার ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে। বাকি ২০টি অন্যান্য দেশকে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

– মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর

অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রয়োজন অনুভব করছিল বাংলাদেশ। এইজন্য কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে গভির সমুদ্র বন্দর নির্মানের কাজ শুরু হয়। গত ২৯ ডিসেম্বর এই বন্দরের সক্ষমতা নিরুপনের জন্য প্রথম মালবাহী জাহাজ ভিড়েছে। এর ফলে গভীর সমুদ্র বন্দর বাস্তবায়নের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে মোট ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ঋণ দিচ্ছে জাপান। বাকি অর্থের মধ্যে সরকার দিচ্ছে দুই হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে দুই হাজার ২১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের শেষ দিকে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর সময়সীমা নির্ধারিত আছে। তবে এর আগেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়ার মধ্য দিয়ে ২৯ ডিসেম্বর চালু হয় সমুদ্রবন্দরের চ্যানেলটি।

– মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পটি কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) এর অধীনে নির্মাণ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০১৭ জুলাইয়ে জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করে সিপিজিসিবিএল। জাপানি কনসোর্টিয়ামের অন্যতম কোম্পানি তোশিবা করপোরেশন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মাতারবাড়ী ও ঢালঘাটা ইউনিয়নের এক হাজার ৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে। সিপিজিসিবিএল সূত্র জানায়, প্রকল্পে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি স্টিম টারবাইন, সার্কুলেটিং কুলিং ওয়াটার স্টেশন স্থাপন, ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি ও পানি শোধন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। কয়লা আমদানির জন্য নদীতে ৭ কিলোমিটার নৌ চ্যানেল করা হবে। পাশাপাশি কয়লা ওঠানামার জন্য নির্মাণ করা হবে জেটি। কয়লা আমদানির পর তা সংরক্ষণের জন্য বানানো হবে কোল ইয়ার্ড। পাশাপাশি টাউনশিপ নির্মাণ, গ্রাম বিদ্যুতায়ন এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন কাজের আওতায় চকোরিয়া-মাতারবাড়ী ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ ও ১৩২/৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। নির্মাণ করা হবে অ্যাশ ডিসপোজাল এরিয়া এবং বাফার জোন।

পরিবেশ দূষণ রোধে অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৭০০ কেজি স্ট্যান্ডার্ডে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কয়লা আমদানি করা হবে। এতে প্রতি টন কয়লার দাম প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ২৫৫ টাকা ৫০ পয়সা ধরা হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তির এই কেন্দ্রে কম পরিমাণ কয়লার প্রয়োজন হবে এবং কম কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। ফলে বায়ুদূষণসহ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব একেবারেই কম পড়বে। এছাড়া নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ রোধ করার জন্য লোরেট বার্নার স্থাপন করা হবে। সালফার-ডাই অক্সাইড রোধ করার জন্য সাগরের পানিতে ডি-সালফারাইজেশন মেথড ব্যবহার করা হবে। অ্যাশ রোধ বা কমানোর জন্য ইলেকট্রোস্টেটিক প্রিসিপিটেটর এ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাব-বিটুমিনাস কয়লা ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আনার জন্য একটি বন্দর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা দেশের আধুনিক সমুদ্রবন্দর হিসেবেও গড়ে তোলা হবে। ৫৯ ফুট গভীর এ বন্দরে ৮০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। জাপানের তোশিবা করপোরেশন এ বন্দরটি নির্মাণ করবে।

২০১৫ সালের আগস্টে মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৩৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। এই প্রকল্পে ২৯ হাজার কোটি টাকা দেবে জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা-জাইকা। বাকি ৫ হাজার কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট অর্থের যোগান দেবে কেন্দ্রটির বাস্তবায়নকারী ও স্বত্বাধিকারী সিপিজিসিবিএল।

– পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রঃ

বাংলাদেশ বিশ্বের ১০ম দেশ হিসেবে কয়লা ভিত্তিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করেছে। পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ৬৬০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট মিলে এই কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট। ১৫ মে থেকে প্রথম ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুরোপুরিভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিট থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় গ্রীডে ২৩০ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হচ্ছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদুৎ পুরোপুরি উৎপাদান সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কতৃপক্ষ। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে নির্মিত পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এবং উন্নত প্রযুক্তির কারণে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

– ছিটমহলঃ

২০১৫ সালের ৩১শে জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমানা সংক্রান্ত সমস্যাসমূহ সমাধানকল্পে ১৬ মে ১৯৭৪ তারিখে স্বাক্ষরিত ল্যান্ড বাউন্ডারি অ্যাগ্রিমেন্ট-১৯৭৪ (মুজিব-ইন্দিরা) চুক্তি এবং পরবর্তীতে ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রটোকলের আলোকে ৩১ জুলাই ২০১৫ মধ্য রাতে ভূমি বিনিময় সম্পন্ন বলে গণ্য হয়। বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল (৭১১০ একর জমি) ভারতের অংশ হয়েছে। আর ভারতের ১১১টি ছিটমহল (১৭,১৬০ একর জমি) বাংলাদেশের অংশ হয়েছে। বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের আওতায় ১০৫.২৫ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ, ১৯৩ মিটার ব্রিজ তৈরি, ১০.৫ কিলোমিটার খাল খনন, ১১টি বাজারে শেড স্থাপন, সাতটি মসজিদ ও পাঁচটি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের উন্নয়নে ২৫টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে পাঁচটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের অনুমোদন হয়েছে।

কপি পেস্ট।




সম্পাদক ও প্রকাশক :

অফিস লোকেশন:

ফোন:

ই-মেইল:

Copyright  @ JagoBarta.  All right reserved. Website Hosted by www.bdwebs.com